

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ নয়জন আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। রোববার সকালে কারাগার থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত বিশেষ কারণে এই মামলার আরেক আসামি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ভার্চুয়ালি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একচল্লিশ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এর আগে গত ৭ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারিত থাকলেও আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে আজকের দিনে ধার্য করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রধান আসামিসহ ত্রিশজনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে তারা আত্মসমর্পণ না করায় তাদের পলাতক হিসেবে গণ্য করে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালে হাজির করা অন্যান্য বিশিষ্ট আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, পুলিশের সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সংবাদকর্মী ফারজানা রুপা। তবে অসুস্থতার কারণে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হককে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।
প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগে মূলত দুটি বড় ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ৩২ জন মানুষের মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন অর্থাৎ ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ জুলাই একচল্লিশ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ অনেক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাবেক শীর্ষ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা পলাতক রয়েছেন।
বর্তমানে এই হাইপ্রোফাইল মামলার বিচারকার্য অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আদালত প্রাঙ্গণে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই বহুল আলোচিত মামলার বিচার আনুষ্ঠানিক আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা। আগামীতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।