

শেয়ারবাজারে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির শিকার হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনায় ডিএসইর বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল বা আইপিএফ থেকে গ্রাহকদের এই বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত সোমবার প্রথম দফায় মশিউর সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
গত সোমবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ভবনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। প্রথম দিনে ১৫ জন বিনিয়োগকারীকে চেক হস্তান্তরের পর আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে মশিউর সিকিউরিটিজের ১২২ জন বিনিয়োগকারীকে মোট ৩ কোটি ২১ লাখ ৫৭ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ধারাবাহিকভাবে এই চেক বিতরণ কর্মসূচি চালু থাকবে এবং পরবর্তী দিনগুলোর সময়সূচি এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
ফিউচার সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্রোকারেজ হাউস যেন গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করতে না পারে, সে জন্য শিগগিরই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সমন্বিত ও সুরক্ষিত ইউনিফাইড ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার এবং অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
এর আগে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, পুঁজিবাজারে জালিয়াতির শিকার হওয়া পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজার ৩৩২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর ৭২ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধ করবে ডিএসই। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী তাঁদের বিনিয়োগের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন। ক্ষতিগ্রস্ত এই পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউসের মধ্যে রয়েছে মশিউর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাঙ্কো সিকিউরিটিজ এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি। প্রথম ধাপে মশিউর সিকিউরিটিজের গ্রাহকদের অর্থ প্রদান শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকদের পাওনাও পরিশোধ করা হবে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করে ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। ইতিমধ্যে আইপিএফ ও সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর যৌথ উদ্যোগে এ পর্যন্ত মোট ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে, যার ফলে ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারীর শতভাগ পাওনা পরিশোধ সম্পন্ন হবে। তবে ৫ লাখ টাকার বেশি পাওনা রয়েছে এমন ৫৯৫ জন বড় বিনিয়োগকারীর অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে খেলাপি হাউসগুলোর শেয়ার, সম্পত্তি ও পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রির আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে ডিএসই।