

ঢাকা: ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজধানীর মিরপুরে আবারও রাস্তায় নামার চেষ্টা করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে মিরপুর-১৪ ও মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় শ্রমিকরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের ধাওয়ায় তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মোট ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে রোববার মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও ১৯ জনকে আটক করা হয়েছিল। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চলমান এই শ্রমিক আন্দোলনের সূত্রপাত হয় গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিকে কেন্দ্র করে। শ্রমিকরা রাজপথ অবরোধের চেষ্টা চালালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের উত্তেজনা তৈরি হয়। গত রোববার মিরপুরে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গাড়ি ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালেও মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে শ্রমিকরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন, যা পুলিশের হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণে আসে।
মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের পুলিশ বক্সের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, শ্রমিকদের বুঝিয়ে নিজ নিজ কারখানায় ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিরপুর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, জলকামান ও সাঁজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট যৌথভাবে মাঠে কাজ করছে। পোশাক কারখানাগুলোতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
বর্তমানে মিরপুর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং যানবাহন চলাচল অব্যাহত আছে। তবে সম্ভাব্য নতুন কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা, পাশাপাশি জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে আগুন