

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল-এর প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামফলক সরিয়ে আবারও পুরোনো নাম ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে হলের প্রধান ফটক থেকে নতুন নাম মুছে ফেলার কাজ শুরু হয় এবং সেখানে পুরোনো নাম লেখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে এই নামফলক পরিবর্তনের বিষয়ে হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা ও প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে শিক্ষার্থীদের একাংশের উদ্যোগে হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওসমান হাদি হল লেখা হয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় এবং দাপ্তরিক নথিতে নাম বহাল থাকায় অবশেষে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও হল সংসদ এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছে। হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) মো. মুসলিমুর রহমান জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন,
হল সংসদকে না জানিয়েই এই নাম মুছে ফেলা হয়েছে। আমরা ফেসবুক মারফতে বিষয়টি জানতে পেরেছি এবং আমাদের দাবি হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হল ফ্যাসিস্টের নামে না থাকুক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র ও ওয়েবসাইটে এখনও হলটির নাম শেখ মুজিবুর রহমান হল হিসেবেই উল্লেখ রয়েছে। ১৯৪৪ বা ১৯৮৮ সালের পটভূমিতে প্রতিষ্ঠিত এই হলের নাম পরিবর্তনের দাবি গত আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জোরালো হয়। প্রায় আটশ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়ার পর বিষয়টি সিনেট অধিবেশনেও গড়ায়। তবে সিনেট ও সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত অনুমোদন না হওয়ায় আইনি ও দাপ্তরিক জটিলতা তৈরি হয়।
আজকের এই নামফলক পরিবর্তনের মাধ্যমে আপাতত পুরোনো নাম ফিরে এলেও, হলটির চূড়ান্ত নামকরণের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যকার মতবিরোধ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা সিন্ডিকেটের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই হলের নামকরণের চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।