

ঢাকা: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৫২ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৭ জনে। সোমবার (২ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, রবিবারের পর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বরিশাল, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে মোট তিনজন মারা গেছেন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৬২৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ৩১১ জন, সিলেটে ১৪৫ জন, খুলনায় ১২৫ জন, ময়মনসিংহে ১০২ জন, রংপুরে ৩৯ জন এবং রাজশাহীতে ৪৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ লাখ ৬ হাজার ১৬৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৫০৫ জনে। এর মধ্যে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১৯৯১ জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় এর বিস্তার রোধে সচেতনতা ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। জ্বর ও হামের উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।