

ঢাকা: কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের পর মামলার ধরন, অভিযোগের গুরুত্ব এবং তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে আদালতে হাজির করা হচ্ছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কাউকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, আবার কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠাচ্ছেন আদালত।
গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে গত ২ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে করা তিন মামলায় ২৬ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন ঢাকার আদালত। এর আগে একই ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩৩ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। অন্যদিকে, যশোরের আটটি উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তবে সবার ক্ষেত্রে রিমান্ড বা কারাবাসের চিত্র এক নয়। গত ২৭ অক্টোবর পল্টনে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৪ নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল। আবার অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে প্রথমে কারাগারে পাঠানোর নজিরও রয়েছে।
আইন-আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আসামিদের কারাগারে পাঠানো কিংবা রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মামলার তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের এখতিয়ারের ওপর নির্ভর করে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, তদন্তের স্বার্থে আসামিদের কাছ থেকে তথ্য উদঘাটন এবং পলাতক সহযোগীদের ধরতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে থাকে। আদালত সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আইন অনুযায়ী আদেশ দেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিচারিক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। কারাবন্দি নেতাকর্মীদের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কোনো কোনো হিসাবে শতাধিক ভিআইপি নেতার কারাবাসের কথা বলা হলেও কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের সামগ্রিক হিসাব, যার অনেকেই পরবর্তীতে জামিন পেয়েছেন বা অন্য মামলায় আটক রয়েছেন।
সার্বিক বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং নাশকতার প্রমাণ পাওয়ার পরই কেবল আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো।