নড়াইলের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান তালিকায় মেয়ের নাম দুবার রাখার ঘটনায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে তার দল। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে নিজের ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) বরখাস্ত করেছেন ওই এমপি।
দলীয় সতর্কতা ও পিএস বরখাস্ত রবিবার (২৮ জুন) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে দলের সেক্রেটারি ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এমপি আতাউর রহমান বাচ্চুকে দলের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। একইদিন জাতীয় সংসদের প্যাডে স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংসদ সদস্য তার পিএস আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এমপি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজেও বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ১৪ জুন সংসদ সচিবালয় থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অনুদান মঞ্জুরিপত্রে দেখা যায়, নড়াইল-২ আসনের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এই তালিকার উপকারভোগীদের মধ্যে এমপির মেয়ের নাম ‘ফাইজা’ দুই জায়গায় রয়েছে। এক জায়গায় বাবার নাম ‘মো. আতাউর’ এবং অন্য জায়গায় ‘মো. বাচ্চু’ লিখে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।
তালিকাটিতে দেখা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার ২১ জনের মধ্যে এমপির নিজ গ্রামের ৯ জন এবং শ্বশুরবাড়ির ইউনিয়নের ৭ জনের নাম রয়েছে, যা শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিজের স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও তালিকায় মেয়ের নাম থাকা প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু দাবি করেছেন, পিএস তাকে বলেছিলেন দ্রুত তালিকা জমা দিতে হবে। তিনি বলেছিলেন ইউনিয়ন থেকে তালিকা সংগ্রহ করতে। তার সই করা প্যাডে পিএস নিজেই তালিকাটি তৈরি করে জমা দিয়েছেন।
অন্যদিকে বরখাস্ত হওয়া পিএস আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরান জানিয়েছেন, বরখাস্তের চিঠি তিনি এখনো হাতে পাননি। অনুদান তালিকা তৈরিতে নিজের ভূমিকা নিয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করেননি।
মন্তব্য করুন