

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড এবং ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা এবং সৌদি আরবের বিকল্প পথে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির আশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
সোমবার গ্রিনিচ মান সময় ০২১৩-এ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২.১৬ ডলার কমে ১০১.৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ২.১৫ ডলার কমে ৯৮.১৫ ডলারে নেমে এসেছে। গত ১০ সেপ্টেম্বরের পর এটিই তেলের দামের সর্বনিম্ন স্তর।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক পথ খুলতে পারে। সেই আশাতেই তেলের বাজার থেকে ঝুঁকির প্রিমিয়াম কিছুটা কমেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে এই আশা শেষ পর্যন্ত কতটা যৌক্তিক প্রমাণিত হবে, সেটা একেবারেই ভিন্ন প্রশ্ন। সময় এর উত্তর দেবে। - টিম ওয়াটেরার, প্রধান বাজার বিশ্লেষক, কেসিএম ট্রেড।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে সৌদি আরামকোর ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্ন ঘটলেও বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। স্যাটেলাইটের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানি আগস্টের তুলনায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জেপি মর্গ্যান-এর বিশ্লেষকদের মতে, গত ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে গড়ে দৈনিক ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় বেশ আশাব্যঞ্জক।
আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: সব খাতে বড় চাপের আশঙ্কা বিসিআই সভাপতির
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হুমকি-ধমকি চললেও জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে লোহিত সাগর তীরবর্তী অঞ্চলে হুথিদের হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও তেলের বাজারের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে তেলের দামের গতিপথ।