

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি সাততলা ভবনের ষষ্ঠতলায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৯টি ইউনিট। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টার পর লাগা এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে সরু গলি ও ভবনঘেঁষা বৈদ্যুতিক তারের জটের কারণে চরম বিপাকে পড়তে হয় উদ্ধারকর্মীদের। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার পর পরই আশপাশের সড়কগুলোর সরু আকৃতির কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে বেশ বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া ভবনসংলগ্ন বৈদ্যুতিক খুঁটি ও চারপাশে জট পাকিয়ে থাকা তারের কারণে ঠিক সময়ে আগুনের উৎসে পানি ছিটানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে আগুন দ্রুত পাশের অংশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় মার্কেটে কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, মার্কেটের ভেতরে চা ও ধূমপান করার ছোট দোকান থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে তাদের ধারণা। তবে অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আশপাশের সব মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। মার্কেটে কর্মরত অনেক শ্রমিক ও কর্মী দ্রুত পাশের ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালিদ জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে তাদের মোট ৯টি ইউনিট কাজ করেছে। ভেতরে বড় ধরনের কোনো শিখা না থাকলেও প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়া জমে থাকায় কাজ করতে কিছুটা সময় লেগেছে। সরু রাস্তা এবং জট পাকানো তারের কারণে গাড়ি চলাচলে সমস্যা হওয়ায় পানি ছিটানো বিলম্বিত হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ভেতরে কেউ আটকে থাকার বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হয়। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে এবং সরু গলিতে জরুরি সেবা পৌঁছানোর পথ সুগম করতে স্থানীয় প্রশাসন ও নগর পরিকল্পনাবিদদের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
আরও পড়ুন: চকবাজারে মার্কেটে আগুন, চার ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস