
ঢাকা: পুরান ঢাকার চকবাজারে আগুন লাগার পর চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তা এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আজ সোমবার বিকেলে মনজুর খান প্লাজা মার্কেটের একটি দোকানে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। তবে সরু গলি, প্রচণ্ড ধোঁয়া ও পানির স্বল্পতার কারণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আগুন নেভাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে চকবাজারের মনজুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ। এর মাত্র ১৮ মিনিট পর, অর্থাৎ বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রথমে তিনটি ইউনিট কাজ করলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে তা বাড়িয়ে প্রথমে নয়টি এবং পরবর্তীতে ১০টিতে উন্নীত করা হয়। সাততলা এই ভবনের ষষ্ঠ তলায় বিভিন্ন পণ্যের গুদাম রয়েছে এবং প্রতিটি গুদাম তালাবদ্ধ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা শাহজাহান হোসেন জানান, সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে ঢুকতে পারছে না। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও পানির স্বল্পতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজনে ইউনিটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।
পুরান ঢাকার অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে সরু রাস্তা ও পানির সংকট বরাবরের মতোই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। চকবাজারের এই ঘটনাতেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। মনজুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলার গুদামগুলো তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করে সরাসরি আগুন নেভানো সম্ভব হচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ঘন ধোঁয়া ও পর্যাপ্ত পানির উৎসের অভাবে কাজের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে।
এখন পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। পাশাপাশি আগুন লাগার মূল সূত্রপাত কীভাবে হলো এবং ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরেও পুরান ঢাকার চকবাজারের রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় বারবার এমন দুর্ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়রা যৌথভাবে কাজ করছেন। আগুন যাতে আশপাশের অন্য ভবনগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।