|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

বিমানকর্মীর জুতায় ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

0 শেয়ার
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জব্দকৃত স্বর্ণের চালান ও শুল্ক গোয়েন্দার অভিযান।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জব্দকৃত স্বর্ণের চালান ও শুল্ক গোয়েন্দার অভিযান।
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই বিমানকর্মীর জুতা থেকে ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়েছে।
  • উদ্ধারকৃত স্বর্ণের ওজন ৯.৩৪ কেজি এবং বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
  • ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই এয়ারক্রাফট টেকনিক্যাল হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে দুই বিমানকর্মীর জুতার ভেতর থেকে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১৬ কোটি টাকার বেশি মূল্যের স্বর্ণবার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গতকাল রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। উদ্ধার করা এই স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বিমানকর্মীদের এমন অভিনব পন্থায় চোরাচালানের ঘটনায় বিমানবন্দর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মতিঝিল ইবনে সিনা হাসপাতালে কিশোরীর মৃত্যু ও ভাঙচুরের ঘটনা

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইআইডি’র একটি বিশেষ দল বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিল। এ সময় দুবাই থেকে আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে০৫৮২ ফ্লাইটটি অবতরণ করলে সন্দেহভাজন ওই দুই বিমানকর্মীকে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তাদের জুতার ভেতর থেকে বিশেষ কায়দায় স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা মোট ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন প্রায় ১১৭ গ্রাম বলে জানিয়েছে শুল্ক বিভাগ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অত্যন্ত সুকৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি চোরাচালান চালিয়ে আসছে।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই বিমানকর্মী হলেন মো. মানিক মিয়া ও মো. মিজানুর রহমান। তারা দু’জনেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারক্রাফট টেকনিক্যাল হেলপার বা এটিএইচ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে মাঠে নেমেছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

চোরাচালান সিন্ডিকেট ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ

বিমানবন্দরের মতো উচ্চ নিরাপত্তার স্থান ভেদ করে কীভাবে জুতার ভেতরে এত বড় স্বর্ণের চালান নিয়ে আসা হলো, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক চোরাচালান সিন্ডিকেটের একটি বড় অংশ বিমানবন্দর কর্মীদের এই কাজে ব্যবহার করছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের চালানটি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, সে বিষয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও কড়াকড়ি এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি বাড়ানো জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনার সাথে বিমানবন্দর বা অন্য কোনো সংস্থায় কর্মরত অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই চক্রের শিকড় উৎখাত করার কথা জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।