
রংপুর: রংপুরে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের প্রসারে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিল্প প্লটের তীব্র সংকট। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যমান বিসিক শিল্পনগরীর ৭৫ শতাংশ প্লট নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকায় নতুন উদ্যোক্তারা জমি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২০০২ সাল থেকে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতায় তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে একদিকে যেমন কৃষিজমিতে অপরিকল্পিতভাবে কারখানা গড়ে উঠছে, অন্যদিকে বাড়ছে বেকারত্ব ও খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি।
১৯৬৭ সালে নগরীর সিও বাজার এলাকায় ২০ দশমিক ৬৮ একর জমির ওপর ৮৩টি প্লট নিয়ে প্রথম বিসিক শিল্পনগরী যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এখানে ২৫টি শিল্প ইউনিট থাকলেও প্লটের সিংহভাগ অংশ একটি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। ২০১০ সালে রংপুর বিভাগ গঠনের পর নতুন উদ্যোক্তার সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেলেও প্লটের পরিসর বাড়েনি। এর ফলে প্রতিদিন শত শত উদ্যোক্তা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে কৃষি জমি কিনে শিল্প স্থাপন করছেন।
রংপুর বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক এহেছানুল হক বলেন, দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরীর জমির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ বিষয়ে জোরালো প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের ইতিবাচকভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ২০০৪ সালে দমদমায় ৫০ একর জমি অধিগ্রহণের আবেদন করা হলেও তা ফাইলবন্দি হয়ে থাকে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন জেলা প্রশাসন সদর উপজেলার হরিদেবপুর ও রামনাথপুর মৌজার ১০০ একর জমির প্রস্তাবিত স্কেচ ম্যাপ মন্ত্রণালয়ে পাঠালেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে প্রথম বিসিক শিল্পনগরীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর বেহাল দশা, সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টের অনুপস্থিতি উদ্যোক্তাদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট এমদাদ হোসেন জানান, বিসিক শিল্পনগরীতে জায়গা না থাকায় যত্রতত্র কৃষিজমিতে কারখানা গড়ে উঠছে, যা কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে হুমকিতে ফেলছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, উত্তরাঞ্চলের বেকারত্ব দূর করতে এবং পরিকল্পিত শিল্পায়নের ধারা বজায় রাখতে দ্রুত দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন এবং গ্যাস সংযোগসহ পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।