
মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের সংসদীয় নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্ট বা নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে না পারায় দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বর্তমানে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভোট-পরবর্তী জরিপ বা এক্সিট পোল অনুযায়ী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট কেউই এককভাবে সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পাচ্ছেন না।
ইসরায়েলের প্রধান তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার দলের নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৯টি আসন এবং আরব লিস্ট অর্জন করেছে ১৯টি আসন। বিদায়ী পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোটে ৬৮টি আসন থাকলেও এবার তার আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে তার দল লিকুদ একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিকে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের রাজনীতি মূলত জোট গঠনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সবচেয়ে বড় দল হওয়াটাই শেষ কথা নয়। ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন এ বিষয়ে বলেন,
বুথফেরত জরিপগুলোয় নেতানিয়াহুর জোটের স্পষ্ট দুর্বলতা উঠে এসেছে। তবে নেতানিয়াহু চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন কিংবা তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটেছে, কোনোটা বলার সময়ই এখনও আসেনি।একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার কারণে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন বলেও মত দেন তিনি।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর পুরো প্রক্রিয়াটি চলে যাবে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের হাতে। জেরুজালেমে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি নির্বাচিত দলের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী নির্ধারণ করবেন। প্রেসিডেন্টের বিবেচনায় যিনি ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সবচেয়ে সক্ষম হবেন, তাকেই তিনি সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। বিরোধী দলগুলো বুথফেরত জরিপে ৬৮ থেকে ৭০টি আসন পেলেও ডান, বাম ও আরব দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে তাদের জন্যও সরকার গঠনের পথ বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।
ভোট গণনার কাজ চলমান থাকায় চূড়ান্ত ফলাফল পেতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে পরবর্তী সরকার গঠনের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক দর-কষাকষির পথ উন্মুক্ত হয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।