
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই ২০২৪ আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. মাহবুবউল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য তিন আসামিকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়ের সময় সব আসামি পলাতক ছিলেন।
তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বছরের ২৫ মার্চ এই মামলার তদন্ত শুরু হয় এবং একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালে ৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়ার পর উভয় পক্ষের শুনানি শেষে গত বছরের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার এই দিন ধার্য করেছিলেন।
আসামি মো. মাহবুবউল আলম হানিফকে ১নং চার্জের ১-৬নং কাউন্টে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। এছাড়া অন্যান্য চার্জে তাকে এবং অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই সভার নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। সেদিন আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীদের গুলিতে আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, মো. উসামা, বাবুল ফরাজী ও ইউসুফ শেখ শহীদ হন। ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় হানিফকে মৃত্যুদণ্ড এবং সদর উদ্দিন খান, আজগর আলী ও আতাউর রহমান আতাকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণাকালে ট্রাইব্যুনাল আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, সাজাপ্রাপ্ত সকল আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধাংশ বাজেয়াপ্ত করা হবে। এই বাজেয়াপ্তকৃত সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে জুলাই ২০২৪ আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। আদালতের এই রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।