
তুরাগ নদ থেকে নিখোঁজ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়ানোর পুরোনো একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। গত ২১ জুলাই প্রকাশিত একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তাহসিফ নিজে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও প্রমাণহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে তার মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট সংঘটিত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও রেকর্ড ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাহসিফের বিরুদ্ধে। তবে তিন মাস আট দিন আগে 'Speak With Rashid' চ্যানেলে প্রকাশিত ওই পডকাস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলন যে, তাকে ঘিরে ছড়ানো ওই তথ্য সম্পূর্ণ প্রোপাগান্ডা এবং তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ কারো কাছে নেই। তৎকালীন সময়ে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পেছনেও এই অভিযোগটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
তহসিফ সাউরি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ওনারা ক্লিয়ারলি লিখেছে ভিডিওটি আমি ছড়িয়েছি। আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি, ছড়িয়েও থাকি, হোয়াট ইজ দ্য প্রুভ দে আর হ্যাভিং। এটাও হতে পারে, এজন্য হয়তো আজকে আমি এয়ারফোর্সে নেই।
তাহসিফের মৃত্যুর পর তার বন্ধু ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইন্তিসার ইনজিমাম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণেই তাহসিফের এই পরিণতি হতে পারে। তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, এটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা বা ব্যক্তিগত কোন্দল নয়, বরং এর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসূত্র থাকতে পারে।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যু এবং তার অব্যাহতির পেছনের কারণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ ও অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্তের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।