
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ক্ষমতায় দুই বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে রাজধানী জাকার্তায় ব্যাপক বিক্ষোভের আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর এই কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নগর পুলিশ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ সদস্য মোতায়েন করেছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর শপথ গ্রহণ করেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হলেও তার জনতুষ্টিবাদী অর্থনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ড, শেয়ারবাজারে বড় দরপতন এবং রুপির মান কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে।
বিক্ষোভের বিষয়ে জাকার্তা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র বুদি হারমান্তো জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এদিকে, ইন্দোনেশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো অর্থনীতি ও পরিবেশগত সংকটের প্রতিবাদে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিসও জাকার্তার একটি স্মৃতিস্তম্ভে জলবায়ু সংকট মোকাবিলা ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ব্যানার প্রদর্শন করেছে।
সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের (এসএমআরসি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে প্রাবোও সুবিয়ান্তোর প্রতি জনসমর্থন ছিল ৮১ দশমিক ২ শতাংশ, যা চলতি মাসে ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষের প্রধান কারণ। এর আগে আগস্ট মাসেও দেশটিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সহিংসতায় রূপ নেয়।
সরকার বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রেসিডেন্টের জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপের সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।