
প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য ডিপিসি সভা শেষ হলেও এখনো সরকারি আদেশ বা জিও জারি না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে। প্রতিবছর শিক্ষক দিবস এলেই শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে নানা আলোচনা হলেও, সরকারি কলেজ ও বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতিবঞ্চনার চিত্রটি আজও অপরিবর্তিত রয়েছে। যোগ্যতা অর্জনের পরও বছরের পর বছর একই পদে আটকে থাকার এই প্রশাসনিক অচলাবস্থা শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৩ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-১ শাখা থেকে প্রভাষকদের পদোন্নতির জন্য ডিপিসি সভা আহ্বান করা হয়। পরবর্তীতে ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর তিন দিন বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২১ সেপ্টেম্বর সভা শেষ হলেও শূন্য পদের সংকট এবং সুপারনিউমারারি পদ সৃজন না হওয়ার অজুহাতে এখনো পদোন্নতির আদেশ দেওয়া হয়নি। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক ৯ হাজার ৭৮২ জনের বিপরীতে সহকারী অধ্যাপক পদ রয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৫১টি। ফলে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তার প্রথম পদোন্নতির পথ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিতে হলে সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। অথচ প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ফাইলবন্দী থাকায় হাজারো কর্মকর্তার যাপিত জীবন আজ জেরবার।
শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের অভিযোগ, অন্যান্য ক্যাডারে নিয়মিত পদোন্নতি হলেও শিক্ষা ক্যাডারে এই প্রক্রিয়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বা প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়মিত বিরতিতে পদোন্নতি পেলেও শিক্ষা ক্যাডারে ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে কোনো পদোন্নতি হয়নি। মাঝে ২০২৫ সালে একসঙ্গে বড় সংখ্যায় পদোন্নতি দেওয়া হলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারেনি। দ্য এডভাইজরসসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি এবং নিয়মিত ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতির দাবি জানানো হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
আরও পড়ুন: কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্স, আবেদন যেভাবে
শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে এই প্রশাসনিক জট ও পদোন্নতিবঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান চান ভুক্তভোগী শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। কেবল এককালীন পদোন্নতি নয়, বরং অন্যান্য ক্যাডারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় এই দীর্ঘমেয়াদী হতাশা উচ্চশিক্ষার গুণগত মান রক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।