
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব এবং অন্যান্য ভাইরাসের যৌথ আক্রমণে ডেঙ্গু ও হামের দ্বৈত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের গবেষক ও অধ্যাপক ড. আনোয়ার খসরু পারভেজ সাম্প্রতিক এক স্বাস্থ্যবিশ্লেষণে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। মূলত ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে জ্বর, সর্দি-কাশি ও গা ব্যথার মতো উপসর্গগুলোতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন, যা থেকে উত্তরণে বিজ্ঞানসম্মত সচেতনতা জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, জ্বর কোনো স্বাধীন রোগ নয় বরং এটি শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি উপসর্গ মাত্র। তবে বর্তমান মৌসুমে ভাইরাসের বহুমাত্রিক রূপ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। আগে ডেঙ্গুর তীব্র কাঁপানো জ্বর দেখা গেলেও এখন সামান্য বা মাঝারি জ্বরেও ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পর ৩ থেকে ৬ নম্বর দিনে প্লাটিলেট কমে যাওয়া এবং প্লাজমা লিকেজের মাধ্যমে রোগী ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝেও হামের পুনরুত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অতিরিক্ত জ্বরে ভয় পেয়ে ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে চিকিৎসকদের নির্দেশিত উপায়ে সঠিক নিয়মে স্পঞ্জ করা, শরীর পানিশূন্য হতে না দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই সন্তানের দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে।
কোনো রোগী যদি একই সাথে ডেঙ্গু ও হাম কিংবা ফ্লু ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, তবে তাকে কো-ইনফেকশন বা দ্বৈত আক্রমণ বলা হয়, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুর থার্মোমিটারের পারদ ১০৬ থেকে ১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে। এ সময় রোগীকে ভারী কাপড়ে ঢেকে না রেখে হালকা পোশাক পরিয়ে ঘর ঠান্ডা রাখতে হবে। এছাড়া তোয়ালে দিয়ে শরীর ভেজানোর চেয়ে কন্টিনিউয়াস স্পঞ্জিং অনেক বেশি কার্যকর। ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সংযম রাখতে হবে এবং কেবল চিকিৎসকের অনুমোদিত প্যারাসিটামল সেবন করতে হবে। ভুলক্রমেও আইবুপ্রোফেন বা এনএসএআইডি জাতীয় ব্যথানাশক সেবন করলে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে।
ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টি দিতে হবে। ফোটানো পানি, ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন ও স্যুপ জাতীয় তরল খাবার নিয়মিত গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের টক্সিন দূর করতে হবে। ডেঙ্গু সন্দেহে শুরুর ১ থেকে ৫ দিনের মধ্যেই ডিএনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট করা এবং শিশুদের সুরক্ষায় হামের টিকা সময়মতো নিশ্চিত করা আবশ্যক। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমেই এই মৌসুমি স্বাস্থ্যঝুঁকি সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।