
রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারা গলির মনসুর খান প্লাজায় আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ছয়তলার দোকানের মালামাল। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে লাগা এই আগুন দীর্ঘ সময় পর মঙ্গলবার ভোরে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ভবনের ভেতরে এখনো প্রবেশ করতে না পারায় নিজেদের গোডাউনের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। কেউ গোডাউনে রাখা প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন, কেউ আবার কোটি কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন। আগুনে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েছেন আশপাশের ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার সকালেও আগুন লাগা ভবনের সামনে ব্যবসায়ীদের উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের চোখেমুখে ছিল অনিশ্চয়তা ও ভেতরে থাকা মালামাল ফিরে পাওয়ার আকুতি। অনেকের আশঙ্কা, আগুনে তাদের সারা জীবনের পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। গোডাউন মালিক মো. রবিন জানান, ভবনটির পাঁচ, ছয় ও সাততলায় কসমেটিক পণ্য ও ব্যাগের গোডাউন রয়েছে। তার ছয়তলার গোডাউনেই প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ ছিল। এই তলাগুলোতে ৫০টির বেশি গোডাউন রয়েছে এবং প্রতিটিতে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মালামাল রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মনসুর খান প্লাজার আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করেছে এবং মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানিয়েছেন, আগুনে মার্কেটটির ছয়তলার গোডাউন সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুন নেভানোর কাজে গিয়ে তীব্র ধোঁয়ায় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়া সরু রাস্তা ও ভবনের কাঠামোগত জটিলতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভবনের নিচতলার ব্যাগের দোকানদার মো. ইমতিয়াজ বলেন, গতকাল বিকেল ৫টায় আগুন লেগেছে, আর আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত ধোঁয়া বের হচ্ছিল। ফায়ার সার্ভিসের গাফিলতির কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে এত সময় লেগেছে দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের এমন অবস্থা হয়েছে যে সকালে মালিক, বিকেলে ফকির। এই ভবনে কোটি কোটি টাকার মালামাল রয়েছে। আগুন যথাসময়ে নিয়ন্ত্রণে না আসায় অনেক ব্যবসায়ী পথে বসে গেছেন।
আগুন লাগা ভবনের দরজা খুলে ভেতরের মালামাল দেখার আগপর্যন্ত ব্যবসায়ীরা জানেন না তাদের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে। কারও কয়েক দশকের ব্যবসার পুঁজি, কারও পরিবারের জীবিকার অবলম্বন সবকিছুই এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবন বন্ধ করে দিয়েছে। এসব ভবনে কসমেটিকসহ বিভিন্ন পণ্যের অসংখ্য দোকান রয়েছে। দোকান বন্ধ থাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে না পেরে কসমেটিক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইদুর রহমানসহ অনেকেই মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও গোডাউনের দরজা খোলার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।