
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা ২২ দিন ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। নিয়োগ পাওয়ার ২১ দিন পর সোমবার নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার পর মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন উপাচার্যের পদত্যাগ ও সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা এবং পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন ঘোষণা করা হয়। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেওয়ায় তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে নানা আলোচনা চলছে। সরকারের দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তি জানান, উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত সরকারের প্রশাসনিক এখতিয়ার, তাই এ বিষয়ে আন্দোলন করা সমীচীন নয়। তাঁর মতে, ডুয়েট ও কুয়েটের উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের মতো চুয়েটের এই আন্দোলনের পেছনেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। অন্যদিকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ বা রাজনৈতিক নেতাদের দ্বন্দ্ব এবং নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বাদ দিয়ে বাইরে থেকে উপাচার্য নিয়োগের ফলে এই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও ক্যাম্পাসে আলোচনা রয়েছে।
সরকারের তরফ থেকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হলেও তা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো দলীয় রাজনীতির সম্পর্ক নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালই এই সংকটের একমাত্র সমাধান।
এদিকে দিনের পর দিন উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এভাবে বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সেশনজটের তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সংকট দীর্ঘায়িত না করে সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থার অবসান ঘটানো। সাধারণ শিক্ষার্থীরাও দ্রুত ক্লাসে ফিরে যেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।