|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

গাইবান্ধায় ছেলে সেজে বিয়ে করার অভিযোগে তরুণীকে বেত্রাঘাত

0 শেয়ার
ঘটনার পর পলাশবাড়ী উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকা ও ফাইল ছবি।
ঘটনার পর পলাশবাড়ী উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকা ও ফাইল ছবি।
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ছেলে সেজে বিয়ের অভিযোগে তরুণীকে সালিসে বেত্রাঘাত করা হয়েছে।
  • ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
  • পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী তরুণীর কোনো অভিযোগ না থাকায় কোনো মামলা হয়নি।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ছেলে সেজে অপর এক তরুণীকে বিয়ে করার অভিযোগে এক তরুণীকে (২৩) সালিসে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার দুপুরে নামাজের পর উপজেলার একটি গ্রামে এই সালিস বসে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নাম পরিবর্তন করে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সাদপন্থীদের মামলার তদন্ত ও বিচারসহ ৫ দাবি ওলামা মাশায়েখের

ছড়িয়ে পড়া ২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, সালিসের মাঝখানে শার্ট ও লুঙ্গি পরিহিত এক ব্যক্তি হাতে বেত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ওই তরুণী। সালিসের উপস্থিত লোকজনের সামনে তাঁকে বেত্রাঘাত করা হয়। এরপর মেয়েটিকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং সবার সামনে তওবা পড়ানো হয়। এ সময় ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করলে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী চট্টগ্রামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং সেখানে পলাশবাড়ীর আরেক তরুণীর (২০) সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভুক্তভোগী তরুণী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে নিজের নাম পরিবর্তন করে ওই তরুণীকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তরুণীর বাবার অনুরোধে এবং এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে এই সালিস ডাকা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

স্থানীয় নেতা ও পুলিশের বক্তব্য

সালিসে বেত্রাঘাত করা ব্যক্তি মাহফুজ আহমেদ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং একই এলাকার বাসিন্দা। তাঁর ভাষ্যমতে, বিষয়টি এলাকায় জানাজানির পর উত্তেজনা দেখা দিলে তরুণীর বাবার অনুরোধে সালিস করা হয়। অন্যথায় উত্তেজিত জনতা মব তৈরি করতে পারত। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এমনটি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গতকাল শনিবার দুপুরে তরুণীর বাড়িতে যান পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান। এ বিষয়ে ওসি বলেন, ওই তরুণী বলেছেন তিনি অপরাধ করেছেন এবং এলাকার ভাইয়েরা তাঁকে শাসন করেছেন, তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। তাই এ নিয়ে কোনো মামলা কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পুরো বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছে। ভুক্তভোগী তরুণী বর্তমানে তাঁর বাড়িতেই অবস্থান করছেন। এই ধরনের বিচারবহির্ভূত শাস্তি এবং সালিসের নামে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।