
ঢাকা: টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ। আজ রবিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ এবং ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হামলার ঘটনায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা মুফতি কেফায়েতুল্লাহ আজহারী। এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী। উপস্থিত ছিলেন জমিয়তের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারীসহ শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম। বক্তারা বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা জনমনে অসন্তোষ তৈরি করছে। অবিলম্বে এসব মামলার তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
"বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দ্বীনি পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ভাবমূর্তির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এ আয়োজন নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, উসকানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, তা আমরা চাই না।"
সংবাদ সম্মেলনে ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রথমত, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হামলা ও প্রাণহানির মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল ও বিচার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭-এর আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তিকর ভিডিও বার্তা প্রচারের অভিযোগে সাদপন্থী নেতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও ওসামা ইসলামের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ। চতুর্থত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি তাঁদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। পঞ্চমত, তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে একটি অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যা সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের অপপ্রচার রোধে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান ওলামা মাশায়েখ নেতারা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।