
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে ‘নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে দুই হাজার টাকা মুচলেকায় এই জামিন মঞ্জুর করেন। আজ সোমবার ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তারেক রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রিমান্ড শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত এই জামিন আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউগিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের প্রকল্প এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল লোক হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাণ্ডব চালায়। এ সময় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ঘটনার রাতে সালমান মুক্তাদির স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করলে দেশজুড়ে আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দেড়শ থেকে দুইশ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রমনা থানার সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১ অক্টোবর আদালত তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল রোববার তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক জেহাদ হোসেন তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খান জামিনের প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন এবং ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের কোনো আইনজীবী শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না।
রাজধানীর মতো জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শন এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। আবাসন প্রকল্পের দখল বা পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের মূল উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকলেও মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই হামলার সঙ্গে জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আদালত আগামী ২৮ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলার আইনি প্রক্রিয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।