|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

কোনো লক্ষণ ছাড়াই ডেঙ্গুতে চিকিৎসকের ৮ বছরের মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

0 শেয়ার
ডেঙ্গুতে মৃত শিশু ফামইয়া মাশনুর রুমাইসার ফাইল ছবি
ডেঙ্গুতে মৃত শিশু ফামইয়া মাশনুর রুমাইসার ফাইল ছবি
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • চিকিৎসক দম্পতির আট বছরের কন্যাসন্তান ফামইয়া মাশনুর রুমাইসা কোনো উপসর্গ ছাড়াই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
  • বনশ্রীতে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার অবস্থা অবনতি হয়।
  • চিকিৎসকদের মতে, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পিআইসিইউ সুবিধা বাড়ানো জরুরি।

ঢাকা: কোনো ধরনের জটিল লক্ষণ বা উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আট বছর ১০ মাস বয়সী এক শিশু। মৃত শিশুটির নাম ফামইয়া মাশনুর রুমাইসা। সে রাজধানীর আইডিয়াল স্কুলের বনশ্রী শাখার তৃতীয় শ্রেণির ইংলিশ ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে জ্বর বাড়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ অক্টোবর বিকেলে তার মৃত্যু হয়। শিশুটির বাবা মুহাম্মদ ওমর ফারুক রায়হান জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ-বিশেষজ্ঞ এবং মা ফারজানা সুলতানা ভিশন আই হাসপাতালের চক্ষুবিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ফামইয়া মাশনুর জ্বর জ্বর অনুভব করে এবং পরদিন সকালে তার জ্বর বেড়ে যায়। ১ অক্টোবর মঙ্গলবার পরীক্ষার পর ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্ত হয়। বাসায় তাকে স্যালাইনসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার হঠাৎ তার খিঁচুনি শুরু হলে তাকে বনশ্রীর একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শিশু আইসিইউ বা পিআইসিইউ না থাকায় আরেকটি হাসপাতাল ঘুরে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং পিআইসিইউতে নেওয়ার আধা ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

মেয়ের ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ার পর ওর অবস্থা খারাপ হচ্ছে এমন কোনো সাইনই তো ছিল না। বুঝতেই তো পারলাম না। স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর পিআইসিইউতে আধা ঘণ্টাও ছিল না, তার আগেই মারা গেল। - মুহাম্মদ ওমর ফারুক রায়হান, মৃত শিশুর পিতা ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ

ডেঙ্গুর নীরব আঘাত ও চিকিৎসকদের আক্ষেপ

সাধারণত ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা, রক্ত বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু ফামইয়ার ক্ষেত্রে এসবের কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি। আকস্মিক এই মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পুরো পরিবার। আগামী ১৭ নভেম্বর কক্সবাজারে গিয়ে জন্মদিন উদ্‌যাপনের পরিকল্পনা ছিল তার। ছোট বোন ফারজিন মাহনুর ওয়ারিসা এখনও বুঝতে পারছে না তার বড় বোন কোথায় হারিয়ে গেছে। একমাত্র বড় মেয়ের এমন আকস্মিক প্রয়াণে মা-বাবা শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

পরিবার ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাজধানীসহ দেশের হাসপাতালগুলোতে পিআইসিইউ শয্যার সংকট এবং ডেঙ্গুর মৌসুমের আগেই এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এই ধরনের মর্মান্তিক পরিণতির জন্য দায়ী। বনশ্রীর বাসার আশপাশের ময়লার ভাগাড় ও জমে থাকা পানি পরিষ্কারের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কথাও তুলে ধরেছেন শোকার্ত এই চিকিৎসক পিতা। ছোট্ট একটি মশার কামড়ে ঝরে যাওয়া এই শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুর ভয়াবহতার নতুন এক রূপ সামনে নিয়ে এল।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।