
টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে সভাপতি করে জেলা দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটি গঠনের মাত্র এক দিনের মাথায় তা বাতিল করা হয়েছে। গত রবিবার বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কে এম হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই কমিটি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। মূলত তীব্র সমালোচনা ও সদস্যের প্রতিবাদের মুখেই কেন্দ্রীয় কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার, যখন টাঙ্গাইল জেলা রেজিস্ট্রার অফিস চত্বরে সমিতির উদ্যোগে এক দলিল লেখক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সমাবেশে সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি এম এ রশীদ ও মহাসচিব কে এস হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভার একপর্যায়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি হুমায়ুন রশীদ ওরফে সোনাকে জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি এবং খন্দকার জাহিদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণ সদস্যদের একাংশ এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
কমিটি ঘোষণার ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। বিতর্কিত এক আওয়ামী লীগ নেতাকে পদে বসানোর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি নিজেও নিজ দলের নেতা-কর্মীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে এবং বিএনপি নেতার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলীয় কর্মীরা।
দলিল লেখক সমিতির কমিটি গঠন বা ঘোষণার এখতিয়ার আমার নেই। সেখানে দলিল লেখকদের ৭ দফা দাবিতে সমাবেশ ছিল, আমি প্রধান অতিথি ছিলাম। কেন্দ্রীয় সভাপতি ও মহাসচিবরাই ওই কমিটি ঘোষণা করেছিলেন। - হাসানুজ্জামিল শাহীন, সভাপতি, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি
সমিতির সাধারণ সদস্য মো. রেজাউল রহমান জানান, হত্যা মামলার আসামি এবং নিষিদ্ধ দলের একজন নেতাকে শীর্ষ পদে দেখতে পেয়ে সাধারণ সদস্যরা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে এই কমিটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কমিটি বাতিল করতে বাধ্য হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে টাঙ্গাইল জেলা দলিল লেখক সমিতির কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইনি জটিলতা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সংগঠনের শীর্ষ পদে বসানোর চেষ্টা যে সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে টিকছে না, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, ভবিষ্যতে যেকোনো কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক ও স্বচ্ছতা অবলম্বন করবে পেশাজীবী সংগঠনগুলো।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।