
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মধ্যাঞ্চলে রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় আটটার দিকে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এটি কোনো মিসাইল হামলা নাকি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার ঘটনা, তা এখনো স্পষ্ট করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ শহরে নতুন করে এই বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়ার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে শনিবার রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশি সহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ৩০৯ জন। নিহতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক এবং পাঁচজন সৌদি নাগরিক রয়েছেন। হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেয়।
বিমানবন্দরে ভয়াবহ ওই হামলার কঠোর জবাব দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। হুথিদের হামলার পর আজ ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে শক্তিশালী বিমান হামলা চালায় সামরিক জোটটি। সানার বিভিন্ন অঞ্চলেও এই হামলার ঘটনা ঘটে। সানা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে এই হামলার ঠিক এক ঘণ্টার মধ্যেই রিয়াদের আকাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা দুই পক্ষের চলমান সংঘাতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
গত প্রায় দুই মাস ধরে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে নিয়মিত হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। রিয়াদের বাদশা খালিদ বিমানবন্দরে হওয়া সাম্প্রতিক হামলায় বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে এই ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নিরূপণ করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়েমেন সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবের মূল ভূখণ্ডে এই ধরনের হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।