
ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রতিবাদে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার (১১ অক্টোবর) বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের সামনে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে ওই শিক্ষকের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।
গত ১২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফেসবুকের একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করে। ঘটনার সময় ওয়াহেদ চৌধুরী জার্মানির বার্লিনে মিউজিয়াম ফর নাটুরকুন্ডেতে অতিথি বিজ্ঞানী হিসেবে গবেষণার কাজে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি জার্মানির স্বনামধন্য ফ্রাঙ্কফুর্টের গ্যেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও গবেষণামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। আকস্মিক এই বরখাস্তের ঘটনায় আন্তর্জাতিক গবেষক মহলে আলোচনা শুরু হয়।
রোববারের এই প্রতিবাদ সমাবেশে ওয়াহেদ চৌধুরীর স্ত্রী ও দুই সন্তানও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা জানান, যে পোস্টটিকে কেন্দ্র করে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ও লক করা ফেসবুক প্রোফাইলে শুধুমাত্র বন্ধুদের উদ্দেশে প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তিনি গণতন্ত্র এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করেছিলেন। ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের অধিকার চর্চার কারণে একজন গবেষকের বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তারা মন্তব্য করেন।
সমাবেশে উপস্থিত প্রবাসী শিক্ষক ও গবেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশের বাইরে কর্মরত একজন গবেষক ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের আকস্মিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের শিক্ষকদের একাডেমিক স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত বলে তারা মনে করেন।
বর্তমানে শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীর সাময়িক বরখাস্তের এই বিষয়টি নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গন ও প্রবাসীদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের বোধোদয়ের মাধ্যমে এই জটিলতার অবসান ঘটবে এবং ওই শিক্ষক সসম্মਾਨ ও নিরাপত্তায় তার গবেষণাকাজে পুনরায় মনোনিবেশ করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।