
দূরপাল্লার বাসে কিংবা ট্রেনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গভীর রাতে কুমিল্লায় পৌঁছে নিরাপদে বাসায় ফেরা নিয়ে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার, ঝাগুরঝুলি ও আলেখারচর বিশ্বরোড থেকে কুমিল্লা নগরে প্রবেশের পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক অপরাধ চক্র। চালক ও যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তদের এই ফাঁদে পড়ে অনেকেই সর্বস্ব হারাচ্ছেন, এমনকি হারাচ্ছেন প্রাণ। সম্প্রতি সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর মৃত্যুর ঘটনা এই নিরাপত্তাহীনতাকে প্রকট করে তুলেছে।
চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কুমিল্লায় খুনের ঘটনা ঘটেছে ১১১টি। আগস্টে হত্যার মামলা ছিল ১১টি, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ১৬টিতে। এছাড়া ডাকাতি ও চুরির মামলাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে ফিরে ঝাগুরঝুলিতে নেমে অটোরিকশায় ওঠার পর ছিনতাইকারীদের কবле পড়ে নিহত হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। সর্বশেষ ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অটোরিকশায় তুলে উল্টো পথে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। অপরাধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এসব ঘটনার পেছনে চালক ও চক্রের সদস্যদের মাদকাসক্তির বড় যোগসূত্র রয়েছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিজ্ঞতা বলছে, গভীর রাতে অটোরিকশায় ওঠার পর কৌশলে অন্য অপরাধীদের গাড়িতে তোলা হয়। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়। গত মে মাসে স্টেশনের পর অটোরিকশায় উঠে ছিনতাইয়ের শিকার হন দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি। গত বছরের আগস্টেও শাকতলা এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন এক সংবাদকর্মী। সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি সচেতন মহলেও এই নৈমিত্তিক ছিনতাই ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর শঙ্কা বিরাজ করছে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও অপরাধ পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না। এসআরবির উপপরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃতরা মাদকাসক্ত এবং আদালতে তাঁরা অপরাধ স্বীকার করেছেন। রাতে চলাচলের সময় জনবহুল স্থানে নামা এবং অপরিচিত যাত্রীদের সঙ্গে অটোরিকশা ভাগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, মহাসড়কের প্রবেশমুখগুলোতে পুলিশ দুই পালায় টহল দিচ্ছে এবং দায়িত্বে অবহেলা পেলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে হাইওয়ে পুলিশের জনবল সংকট থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায় মনে করেন, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি: রাতের বেলা মহাসড়ক ও শহরের প্রবেশমুখগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হলেও যাত্রী সাধারণের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। অপরাধ চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।