
সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ছয়টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তথ্য চেয়ে কূটনৈতিক পত্র পাঠিয়েছে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় এই পত্র পাঠানো হয়, যার আনুষ্ঠানিক জবাব এখনো পাওয়া যায়নি। গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির আওতায় তাদের এই দণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিস্তারিত পটভূমি অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব প্রায় আড়াই হাজার বন্দির একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। ওই তালিকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশিসহ মোট ২২ জন বাংলাদেশির দণ্ডিত হওয়ার তথ্য থাকলেও সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিবরণ উল্লেখ ছিল না। এই পরিস্থিতিতে তালিকায় থাকা বাকি ২০ জন বাংলাদেশির শাস্তির ধরন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানার পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তৎপর হয় কূটনৈতিক মিশন।
গত ১৯ দফা বৈঠকে জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহরির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। ওই বৈঠকে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করা হয়। কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে চিঠিতে দ্রুত জবাব দেওয়ার বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের কাছে পাঠানো চিঠিতে সুনির্দিষ্ট ছয়টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়গুলো হলো: ১. দণ্ডিতরা কী ধরনের অপরাধ করেছিলেন, ঘটনাগুলো কবে ও কোথায় ঘটেছিল এবং তাদের কবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২. দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি সরবরাহ করা। ৩. মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি অর্থাৎ প্রকাশ্যে তলোয়ার দিয়ে শিরশ্ছেদ নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে তা কার্যকর করা হয়েছে। ৪. মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে। ৫. মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে। ৬. তদন্ত ও বিচার চলাকালে তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং তারা নিজেরা আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দি বিনিময় ও আইনি সহায়তার বিষয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্যেষ্ঠ এই কূটনৈতিক পদক্ষেপে প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বন্দী, মৃত্যুদণ্ডে অনুলিপি চায় ঢাকা
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।