
সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলনের হামলার জেরে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার অপরিশোধিত তেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৭ ডলারে পৌঁছায়। উত্তর গোলার্ধের শীতকালকে সামনে রেখে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কাজ করেছে। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পর বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার তথাকথিত জ্বালানি যুদ্ধবিরতির দাবি নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। মস্কো থেকে ডিজেল কেনার আকস্মিক ঘোষণার পর এই অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়।
জ্বালানি বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালীন চাহিদার আগে সরবরাহের এই টানাপোড়েন বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন চাপের মুখে ফেলতে পারে। ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ার বাজারে এর মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানো বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে পরিবহন ও উৎপাদন খাতে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক অবস্থানও বাজারে স্বস্তি ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। শীতের প্রস্তুতি হিসেবে দেশগুলোর তেল মজুতকরণের প্রবণতা বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করছে, যা আগামী দিনে তেলের দাম আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।