
প্রথমা দৃষ্টি কুত্তাক্কার সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই মালয়ালম সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শাহাদ পরিচালিত এই ক্রাইম থ্রিলারটি মূলত পুলিশি ব্যবস্থার ভেতরের নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। কোট্টায়ামের নাত্তাকম পুলিশ স্টেশনের একটি কাস্টোডিয়াল মৃত্যুর ঘটনা দিয়ে সিনেমার গল্প শুরু হয়, যা চারজন জুনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার জীবনকে চরম সংকটে ফেলে দেয়।
সিনেমার গল্পে দেখা যায় আলেনা আব্রাহাম নামের এক কনস্টেবলকে, যিনি স্বামীর মৃত্যুর পর সমবেদনা মূলক চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু স্টেশনের একটি অনভিপ্রেত ঘটনা তাকে এবং তার সহকর্মীদের এক কঠিন মানসিক পরীক্ষার মুখে দাঁড় করায়। সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন পি এস সুব্রামানিয়ান ও ভিজেশ থোট্টুঙ্গাল। সুব্রামানিয়ানের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার অভিজ্ঞতা গল্পটিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে, যা সাম্প্রতিককালের মালয়ালম ক্রাইম ঘরানার সিনেমার অন্যতম বড় শক্তি।
সিনেমার চরিত্রগুলো কেবল গল্পের প্রয়োজনেই ব্যবহার করা হয়নি, বরং তাদের নিজস্ব আবেগ, ভয় এবং পারিবারিক ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সিনেমায় আলেনা চরিত্রে পার্বতী তিরুভোটুর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তিনি ছাড়া সিদার্থ ভরতান, উন্নামায়া প্রসাদ এবং ম্যাথিউ থমাসও নিজেদের চরিত্রে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। অন্যদিকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের সিনিয়র কর্মকর্তা হারিস মীরান চরিত্রে বিজয়রাঘবনের উপস্থিতি সিনেমাটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। রবি ভার্গেজ রাজের চিত্রগ্রহণ এবং মুজীব মজিদের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর দর্শকদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
যদিও সিনেমার দৈর্ঘ্য প্রায় ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট হওয়ায় শেষের দিকে কিছুটা দীর্ঘ মনে হতে পারে, তবুও সামগ্রিকভাবে এটি একটি উপভোগ্য থ্রিলার হিসেবে দর্শকদের নজর কেড়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অপরাধ ঢাকতে গিয়ে পুলিশের নৈতিক সংকটের বিষয়টি সিনেমাটিকে সাধারণ থ্রিলারের চেয়ে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।