
কুমিল্লা: কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় কক্সবাজার থেকে রাজু চৌধুরী নামের এক হোটেল কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলীর বাইপাস সড়কের একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহত ওই কিশোরী গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরের ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায় এবং পরে সেখান থেকে কক্সবাজারে পৌঁছায়। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে গত ৬ অক্টোবর কক্সবাজারের একটি স্থানে রাজু চৌধুরীর সঙ্গে ওই স্কুলছাত্রীকে দেখা গিয়েছিল। এই সূত্র ধরেই চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। গ্রেপ্তার রাজু চৌধুরীর বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলায় এবং তাঁর বাবার নাম মনির আহমদ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাইয়ের পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে গত শুক্রবার সুমন মিয়া নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককেও গ্রেপ্তার করে। সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নিহতের ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয় এবং তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত বুধবার রাতে পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে অটোরিকশায় ওঠার পর চালক সুমন মিয়া ওই কিশোরীকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিশোরী প্রতিবাদ করলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তবে এই ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া হোটেলকর্মী রাজু চৌধুরীর প্রত্যক্ষ কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন তদন্ত চলছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, রাজু চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্কুলছাত্রী হত্যায় তাঁর বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমেই রাজুকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। কুমিল্লা থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর রাজুকে তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো হত্যাকাত্রের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য কারণ ও চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।