
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল নূর মোহাম্মদ আয়াশসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য উসকানি এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিরোধ সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অপর আসামিরা হলেন মো. সাকিবুল হাসান, মো. সুজন মিয়া ও খন্দকার মারজিয়া খন্দকার। এর মধ্যে আল নূর মোহাম্মদ আয়াশ ও সাকিবুল হাসানের তিন দিন এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকারের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আসামিদের এই কার্যক্রম সরকারের বিরুদ্ধে একপ্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করার শামিল। তারা বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে বক্তব্য দিচ্ছে এবং আমাদের সম্প্রীতির সংস্কৃতি বিনষ্ট করছে। তিনি আরও বলেন, সামনে দুর্গাপূজা রয়েছে এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। তাদের পেছনে কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনের জন্য রিমান্ড অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে দাবি করেন, অভিযোগগুলো সত্য নয় এবং আসামিরা মাঠ পর্যায়ের কর্মী।
গত শনিবার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম নামের একটি সংগঠনের সদস্যসচিব আয়াশসহ কয়েকজন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দিতে যান। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাঁদের আটক করে এবং পরে শাহবাগ থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। উল্লেখ্য, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গত ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত দখলমুক্ত করে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি দেয়ালচিত্র হিসেবে অঙ্কন করেছিল। পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে এই এলাকাটি সম্প্রতি নতুনভাবে সাজানো হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে যে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।