
সীমিত আবাদযোগ্য জমি এবং ক্রমবর্ধমান শ্রমিকসংকটের মধ্য দিয়ে চলা বাংলাদেশের কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে স্মার্ট প্রযুক্তি ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ। এসিআই মোটরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস সম্প্রতি প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপকালে দেশের কৃষি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আগামী দিনে খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং কৃষকের গড় বয়স বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় টেকসই যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।
দেশের কৃষি খাতের বিদ্যমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানানো হয়, মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ বাংলাদেশে বসবাস করলেও আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত। শস্যের নিবিড়তা বাড়াতে এক ফসল কাটার পরপরই দ্রুত পরবর্তী ফসলের আবাদ নিশ্চিত করা জরুরি। তবে চাষাবাদ ও ফসল কাটার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তীব্র শ্রমিকসংকট এবং ফসল কাটার পর ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত অপচয় রোধে কোল্ডস্টোরেজের গুরুত্ব অপরিসীম। কৃষিজমির খণ্ডীকরণ এবং যন্ত্র কেনার উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় এই খাতের বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
"দেশীয় খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদনে নজর দিতে হবে এবং বগুড়ায় গড়ে ওঠা শিল্পব্যবস্থায় মান নিশ্চিত করতে উন্নত টেস্টিং ল্যাব স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি আধুনিক হায়ার পারচেজ আইন প্রণয়ন করা হলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।"
কৃষি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সেন্সর ও স্যাটেলাইট তথ্যের সঙ্গে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধান উৎপাদনের বাস্তবতার কাছাকাছি একটি মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে, যা সরকারের সম্পদ সঠিক বরাদ্দে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া সার ও কীটনাশক ছিটাতে ড্রোনের ব্যবহার বাড়াতে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে দ্রুত বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকসন্তুষ্টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে কৃষির আমদানিনির্ভরতা দূর করতে এবং জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে সার আমদানি কমাতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষিকে তরুণ প্রজন্মের কাছে একটি আকর্ষণীয় ও লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে, যা বাংলাদেশকে বিশ্ব কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থায় অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।