

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মিরপুরে ফিরোজ তালুকদার পলাশ হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এই আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক আজিম আহমেদ আসামি মঈনউদ্দিনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে মঈনউদ্দিন আহাম্মেদকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। উভয় পক্ষের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় অবস্থানকালে হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন ফিরোজ তালুকদার। পরে তাঁকে দ্রুত মিরপুরের আলোক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান-২ এলাকা থেকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই সময় থেকেই তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দী রয়েছেন। জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: শিল্পের নান্দনিকতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ
বর্তমান পরিস্থিতিতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের সাম্প্রতিক এই আদেশের ফলে ফিরোজ হত্যা মামলার তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত ধারা অনুযায়ী এগিয়ে চলেছে।