

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ককটেল ফুটিয়ে বা বিচ্ছিন্ন কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে বর্তমান সরকারে সংকট তৈরি করা সম্ভব নয়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও রাজপথের উত্তাপের মধ্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের জন্য যে ধরনের জনমত ও কাঠামোগত প্রস্তুতির প্রয়োজন, তা কেবল বিচ্ছিন্ন সহিংসতার মাধ্যমে অর্জিত হয় না।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের কৌশল নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নানা মহলে বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে রাজপথে ককটেল বিস্ফোরণ বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলার যে প্রবণতা দেখা যায়, সেটিকে তিনি রাজনৈতিকভাবে অকার্যকর বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড জনসমর্থন অর্জনের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
জাহেদ উর রহমান তার বিশ্লেষণে বলেন,
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তন বা সংকট তৈরির জন্য সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ককটেল ফুটিয়ে বা জনজীবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে কোনো সরকার পতন ঘটানো সম্ভব নয়, বরং এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কলুষিত করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সহিংসতা কখনোই টেকসই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ হতে পারে না। যখন কোনো রাজনৈতিক দল আন্দোলনের নামে জননিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে, তখন তারা সাধারণ মানুষের নৈতিক সমর্থন হারায়। জাহেদ উর রহমানের এই বক্তব্যটি সেই বাস্তবতাকে তুলে ধরে যে, রাজনৈতিক পরিপক্কতা ছাড়া কোনো আন্দোলনই চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না।
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য সংলাপ ও গণতান্ত্রিক চর্চার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সহিংসতা পরিহার করে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খোঁজার ওপরই জোর দিচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
আরও পড়ুন: নবম পে-স্কেল ও বাজারের চাপ: সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় চ্যালেঞ্জ