
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল কার্যকর করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। নতুন এই কাঠামোয় সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের জারি করা এই আদেশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর ধরা হয়েছে।
অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুরো বেতন একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে মূল বেতন ও ভাতা সমন্বয় করা হবে। সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ চাকরিজীবী এই সুবিধার আওতায় আসছেন এবং নতুন পে-স্কেলের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এটি বাস্তবায়ন করলে বাজারে চাপ বাড়তে পারে। শুধু সরকারি কর্মীদের বেতন বাড়ালে হবে না, বেসরকারি খাতের মানুষের আয় বাড়ানোর ব্যবস্থাও করতে হবে। - ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক অর্থ উপদেষ্টা।
পে-স্কেল ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশ বেসরকারি খাতে নিয়োজিত। সরকারি বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে চাহিদা বাড়লে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান সতর্ক করে বলেছেন, বেসরকারি খাতে একই ধরনের সমন্বয় না হলে দেশে আয়বৈষম্য আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।
বাজারে স্বস্তি ফেরাতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে কঠোর নজরদারি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিকসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরাও তাদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশি-পর্তুগিজ কমিউনিটির বর্ণিল সম্প্রীতি উৎসব
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।