
নিত্যপণ্যের লাগাতার ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এবার প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ডেইরি কোম্পানিগুলো। রাষ্ট্রায়ত্ত মিল্কভিটার পথ ধরে আড়ং, প্রাণ ও ফার্মফ্রেশসহ বিভিন্ন বেসরকারি ব্র্যান্ড তরল দুধের দাম সমন্বয় করায় রাজধানীর খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি লিটার প্যাকেটজাত তরল দুধ ১১০ থেকে ১১৫ টাকা এবং আধা লিটার ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সীমিত আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক বাজার খরচে নতুন করে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গত আগস্টের শুরুতে রাষ্ট্রায়ত্ত মিল্কভিটা পাস্তুরিত তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ১১০ টাকা নির্ধারণ করেছিল। এর মাত্র দেড় মাসের মাথায় একই পথে হাঁটল বেসরকারি কোম্পানিগুলোও। উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে এই দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ডেইরি কোম্পানিগুলো। তবে চাল, ডাল, তেল ও ডিমের চড়া দামের বাজারে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় এই শিশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
"দুধ এখন আর শখের খাবার নয়, পরিবারের নিত্যদিনের প্রয়োজন। বিশেষ করে সন্তানদের জন্য চাইলেও দুধ কেনা বন্ধ করা যায় না। কিন্তু একের পর এক দাম বাড়তে থাকলে আমরা যাব কোথায়? লিটারে ১০ টাকা বাড়ানো হয়তো কারও কাছে সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু মাস শেষে হিসাব করলে এই টাকাই সংসারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।" - মো. ওলিউল্লাহ, বেসরকারি চাকরিজীবী।
ডেইরি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্যাকেজিং এবং গোখাদ্য ছাড়াও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে বাড়তি খরচ হচ্ছে প্রায় ১১ থেকে সাড়ে ১১ টাকা। মিল্কভিটার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। তবে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এই মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক ও ভোক্তাদের জন্য অতিরিক্ত চাপ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন যে, এর ফলে বিশেষ করে শিশু ও দুধের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর পুষ্টি গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বাজারে দুধের দাম বাড়ার কারণে ক্রেতাদের কেনার ধরনেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। অনেক পরিবার এখন এক লিটারের পরিবর্তে আধা লিটারের প্যাকেট কিনছেন কিংবা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দাম তুলনা করে সাশ্রয়ী পণ্যটি বেছে নিচ্ছেন। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে তাদের দৈনন্দিন খরচে কাটছাঁট করছেন। সরকারের তরফ থেকে বাজার মনিটরিং জোরদার না করা হলে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।