
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে শিশু জুলিয়া আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমির হোসেনকে খালাস দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আলোচিত এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়, যেখানে আদালত উল্লেখ করেন যে প্রকৃত আসামিকে বাদ দিয়ে নির্দোষ আমির হোসেনকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে খালাস দিয়ে এই রায় ঘোষণা করেন।
নথি ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৬ মে হাটহাজারী উপজেলার মেখে গ্রামে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে যান শিশু জুলিয়া আক্তার। সেই সময় ওই বাড়িতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করছিলেন আমির হোসেন। অভিযোগ ওঠে যে ওই দিনই তাকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পার্শ্ববর্তী খালে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ খালপার থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং নিহতের পরিবার আমির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ২০০৮ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
নিম্ন আদালতের বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আমির হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। বিচারিক আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ হাইকোর্টে আপিল করে।
হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি চলাকালীন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, মামলার তদন্তে গুরুতর ত্রুটি ছিল এবং প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করে একজন দিনমজুরকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছিল। দীর্ঘ ২১ বছরের কারাবাস ও আইনি লড়াই শেষে এই রায়ের মাধ্যমে আমির হোসেন সব অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পেলেন।
এই রায় দেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা ও মামলার সঠিক তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুল তদন্তের কারণে একটি নিরপরাধ মানুষের জীবন থেকে দুটি দশক হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে চাঞ্চল্যকর এই ধরনের মামলায় আরও অধিকতর সতর্কতা অবলম্বনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।