
দেশে গত দুই বছর ধরে জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ক্রমাগত কমছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ উৎপাদিত হলেও, বর্তমানে তা প্রায় ৫ লাখ টনে নেমে এসেছে। উৎপাদন হ্রাসের এই প্রবণতা কি সাময়িক ওঠানামা, নাকি দেশের ইলিশের মজুত বড় ধরনের সংকটে পড়ার সতর্কসংকেত, তা নিয়ে মৎস্য গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৬ সাল থেকে ইলিশ উৎপাদনে ধারাবাহিক উল্লম্ফন দেখা গেলেও গত দুই বছরে তা নিম্নমুখী হয়েছে। ইলিশের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে ছোট আকৃতির মাছের উপস্থিতি নির্দেশ করে যে সামুদ্রিক এই সম্পদের মজুত বর্তমানে চাপের মুখে রয়েছে। অতীতে ২২ দিনের মা ইলিশ রক্ষা অভিযান এবং জাটকা নিধন রোধের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবস্থাপনায় কিছু দুর্বলতা ও শিথিলতা দেখা দিয়েছে।
অতিরিক্ত আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা এবং নির্বিচার জাটকা নিধনই ইলিশ উৎপাদন হ্রাসের সবচেয়ে বড় কারণ। ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক দুর্বলতা দূর করতে না পারলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বর্তমান ব্যবস্থাপনাগুলোতে বেশ কিছু ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ ও সূক্ষ্ম ফাঁসের জালের ব্যবহার, উপকূলীয় এলাকায় ট্রলিংয়ের মাধ্যমে ছোট মাছ আহরণ এবং অভয়াশ্রমগুলোর বর্তমান কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নদীর গতিপ্রকৃতি পরিবর্তনের ফলে পুরোনো অভয়াশ্রমগুলোর সীমানা পুনর্মূল্যায়ন এবং নতুন করে নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জেলে পরিবারগুলোকে কেবল সাময়িক সহায়তা নয়, বরং পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকার ও মৎস্য অধিদপ্তর যদি সঠিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে ইলিশের উৎপাদন পুনরায় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ফিরে আসবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।