
ঢাকা: পরিবহন খাতের ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের বাজারে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় চরম সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেল ও যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির দোহাই দিয়ে পরিবহন মালিকদের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রভাব ফেলছে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মুদি পণ্যের ওপর। মুদ্রাস্ফীতির এই চাকা ঘুরতে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের সঞ্চয় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ ও সবজির দাম যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী, তাতে করে সীমিত আয়ের মানুষ পরিবারের মাসিক বাজেট মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সমিতির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়ার দাবি মেনে নেওয়ার পর থেকেই সরবরাহ চেইনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বাজারে পণ্য পৌঁছাতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ যুক্ত হওয়ায় প্রতিটি পণ্যের দাম কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবং মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে পরিবহন খরচের অজুহাতে অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে একটি অসাধু চক্র। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এক প্রতিনিধি বলেন,
"পরিবহন ব্যয় সামান্য বাড়লেও বাজারে পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ানো হয়, তা কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না। কার্যকর বাজার তদারকি ছাড়া সাধারণ মানুষকে এই চাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।"
আরও পড়ুন: মিল্কভিটার পর এবার বেসরকারি প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম বাড়ল লিটারে ১০ টাকা
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের সবজির কেজি এখন ৫০ থেকে ৮০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের দামেও রয়েছে অস্বস্তি। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, আয়ের সাথে ব্যয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই। মাসের মাঝপথেই পকেট খালি হয়ে যাওয়ায় অনেকে ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো তাদের খাদ্যতালিকা থেকে মাছ ও মাংসের মতো আমিজাত খাবার বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা ও পুষ্টিহীনতা দুটোই বৃদ্ধি পেতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ওএমএস কার্যক্রম আরও বাড়ানোর কথা বলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অবিলম্বে বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা না হলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।