হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, স্বপ্ন মূলত তিন প্রকার। সহিহ মুসলিম শরিফের (হাদিস নম্বর: ৫৭০৮) বর্ণনা অনুযায়ী—প্রথমত, ভালো স্বপ্ন, যা সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ হিসেবে আসে। দ্বিতীয়ত, শয়তানের পক্ষ থেকে আসা স্বপ্ন, যা মানুষের মনে কেবল ভয় ও দুর্ভাবনা তৈরি করে। আর তৃতীয়টি হলো, মানুষের নিজের দৈনন্দিন চিন্তাভাবনা ও মানসিক অবস্থার প্রতিফলন।
রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ খারাপ স্বপ্ন দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে নবীজির (সা.) সুন্নাহ অনুসরণ করা উচিত। সহিহ বোখারি শরিফের (হাদিস নম্বর: ৬৯৯৫) বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত ,কেউ খারাপ স্বপ্ন দেখলে সে যেন দ্রুত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে (অর্থাৎ, 'আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম' পড়ে) এবং নিজের বাম দিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করে (প্রতীকী থুথু)।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হলো, খারাপ স্বপ্নের কথা ভুল করেও কারও কাছে বলা যাবে না। হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করলে ওই দুঃস্বপ্ন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। অন্যদিকে, কেউ যদি ভালো স্বপ্ন দেখে, তবে তা কেবল এমন মানুষকেই বলা উচিত, যে তাকে সত্যই ভালোবাসে।
এছাড়া ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে বা দুঃস্বপ্ন দেখে আতঙ্কিত হয়ে জেগে উঠলে পড়ার জন্য তিরমিজি শরিফে (হাদিস নম্বর: ৩৫২৮) একটি বিশেষ দোয়ার কথা বলা হয়েছে। দোয়াটি হলো— ‘আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন্ গাযাবিহী ওয়া ইকাবিহী ওয়া শাররি ই’বাদিহী ওয়ামিন হামাযাতিশ শায়াত্বীনি ওয়া আন ইয়াহযুরুন।’
এর অর্থ হলো: "আমি আল্লাহর পূর্ণ বাক্যসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাই তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অপকারিতা থেকে এবং শয়তানের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থেকে। আর তারা যেন আমার কাছে উপস্থিত হতে না পারে।"
মন্তব্য করুন