গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় ধ্বংস হওয়া দুটি বাড়ির নিচ থেকে ২১ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করেছে ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স দল। শনিবার (১৫ আগস্ট) এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। একই দিনে আরও একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ির নিচে আটকে থাকা অন্তত ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধারে নতুন করে অভিযান শুরু করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পূর্ব গাজা সিটির আসকুলা এলাকার কাছে বাতনিজি পরিবারের বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই স্থানে উদ্ধারকাজ শেষ করার পর উদ্ধারকর্মীরা পশ্চিম গাজা সিটির কাতিবা এলাকায় অভিযান চালান। সেখান থেকে ঘারবিয়া পরিবারের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এই দুটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষে সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা বর্তমানে পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকার আল-মাগরিবি পরিবারের বাড়িতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। মাহমুদ বাসালের দেওয়া তথ্যমতে, সেখানে এখনো বিশাল ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও প্রায় ৪০ জনের মরদেহ আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
তবে এই উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে গিয়ে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ সরাতে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি, উদ্ধার সরঞ্জাম, জ্বালানি এবং অন্যান্য লজিস্টিক উপকরণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এসব প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ধ্বংসস্তূপের গভীরে আটকে থাকা মরদেহ কিংবা জীবিতদের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে। গাজায় দীর্ঘদিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে অসংখ্য ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে প্রতিদিনই এমন চরম চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে ফিলিস্তিনি উদ্ধারকারী দলগুলোকে।
মন্তব্য করুন