
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় প্রথম ভাষণ দিয়ে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং পুনর্গঠনের জোরালো বার্তা তুলে ধরেছেন। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সফরে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি ১১টি দেশের প্রতিনিধি এবং ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থ নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বিশ্বশান্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এছাড়া দেশ পুনর্গঠনে সরকারের পক্ষ থেকে রিডিজাইন বা তিন-আর (রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন) কৌশলের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের বিপুল আস্থার ভোটে নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে দেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও মর্যাদা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে।
তারেক রহমানের এই প্রথম জাতিসংঘ ভাষণটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে এবং মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালসহ বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। একই পরিবারের তিন প্রজন্মের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান হিসেবে বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দেওয়ার এই বিরল ঘটনাটি দেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক সংযোগ স্থাপন করেছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এই সফর কেবল আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে সাতটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দাবি পুনরায় জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সফর দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।