প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য অনুষ্ঠিত বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল অবশেষে ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন।
এবারের বৃত্তি পরীক্ষায় বরাবরের মতোই ছাত্রীদের সাফল্যের জয়জয়কার দেখা গেছে। মেধার তালিকায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
চলতি বছর সব মিলিয়ে ৭৯,২৪৬ জন শিক্ষার্থী সরকারি বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এর মধ্যে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৪.৭১ শতাংশ, আর ছাত্ররা পেয়েছে ৪৫.২৯ শতাংশ বৃত্তি। শতাংশের এই হিসাব পরিষ্কারভাবে বলে দেয় যে প্রাথমিক স্তরে মেধার দৌড়ে মেয়েরা কতটা এগিয়ে যাচ্ছে।
বৃত্তি প্রাপ্তদের দুটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে:
ট্যালেন্টপুল বৃত্তি: মেধা কোটায় এই বিশেষ বৃত্তিটি পেয়েছে ৩২,৯৬৫ জন শিক্ষার্থী।
সাধারণ বৃত্তি: সাধারণ কোটায় বৃত্তি পেয়েছে ৪৬,২৮ি জন শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুরো দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে ঢাকা জেলা থেকে। এই জেলা থেকে ৪,৬৮২ জন শিক্ষার্থী তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম বৃত্তি পেয়েছে বান্দরবান জেলার শিক্ষার্থীরা, যেখানে সংখ্যাটি মাত্র ১৮৮।
এছাড়া দিনাজপুর জেলায় এবার অনুত্তীর্ণ বা ফেল করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। উপস্থিতির হারে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল ঠাকুরগাঁও জেলা (৮১.৬১ শতাংশ) এবং সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলায়, যেখানে অনুপস্থিতির হার ছিল ৫২.৮ শতাংশ।
বর্তমানে যারা এই বৃত্তি পেয়েছে তারা ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি মাসে এবং এককালীন কিছু আর্থিক অনুদান পাবে। ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ উভয় কোটার শিক্ষার্থীরাই এককালীন ২২৫ টাকা করে পাবে। তবে মাসিক বৃত্তির ক্ষেত্রে ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্তরা ৩০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা ২২৫ টাকা করে হাতে পাবে।
তবে খুশির খবর হলো, আগামী অর্থাৎ ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা থেকে এই বৃত্তির টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ করার একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাব পাস হলে ট্যালেন্টপুলের মাসিক বৃত্তি ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তি ২২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ টাকা করা হবে। একই সাথে এককালীন অনুদানও ২২৫ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আইনি জটিলতার কারণে গত বছরের পরীক্ষাটি কিছুটা পিছিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে ফলাফল প্রকাশ হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে এখন আনন্দের আমেজ কাজ করছে।
মন্তব্য করুন