প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম পদ্মা সেতু পার হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই মুন্সীগঞ্জের মাওয়া টোল প্লাজা এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। পুরো এলাকাজুড়ে বিরাজ করছিল এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে মাওয়া প্রান্তে জড়ো হতে শুরু করেন। প্রিয় নেতাকে সামনাসামনি একনজর দেখার জন্য রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমান হাজারো উৎসুক জনতা। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর যখন এক্সপ্রেসওয়ে পার হচ্ছিল, তখন তিনি হাত নেড়ে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
এই বিশেষ সফরকে ঘিরে পদ্মা সেতুর মাওয়া এবং এর আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াত যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছিল।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, পদ্মা সেতু পার হয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিশালে পৌঁছাবেন। সেখানে গিয়ে তিনি প্রথমে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর স্থানীয় ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। উক্ত সভায় দেশের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ, পরিবেশ রক্ষা এবং দলীয় সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বরিশাল সফর। কর্মসূচি শেষ করে আজ বিকেলেই সড়কপথে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে শুধু বরিশাল নয়, বরং পুরো দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো থেকে অসংখ্য নেতাকর্মী সভাস্থলে এসেছেন। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সফর নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই পুরো সফরটি যেন সুন্দর ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মাওয়া প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুন্সীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন এবং স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুসহ স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন