গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকায় বিশাল আকৃতির রাম বিগ্রহ তৈরির প্রধান উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের একটি মন্দির এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের করা একটি মানিলন্ডারিং মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় মন্দির এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরিদাসের বিরুদ্ধে বেশ কিছু দিন ধরেই সরকারি চাকরি ও বদলি বাণিজ্য, হুন্ডি ব্যবসা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল। তদন্তে দেখা গেছে, দৃশ্যত কোনো বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও হরিদাসের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকারও বেশি লেনদেন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়েছেন, যার বড় অংশই পরে তুলে নেওয়া হয়। পেশার সঙ্গে এই বিপুল অর্থের কোনো সংগতি না থাকায় তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হরিদাস ২০০৬ সালে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরেন। ২০১৯ সালে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে তৌহিদ ইসলাম নাম নেন। এরপর থেকে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে জালিয়াতি করতেন এবং ভুয়া অডিও শোনাতেন।
সম্প্রতি পলাশবাড়ীর রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উঁচু একটি রাম বিগ্রহ তৈরির কাজ শুরু হয়, যাকে আয়োজকরা এশিয়ার বৃহত্তম বিগ্রহ বলে দাবি করছিলেন। তবে এই প্রকল্পের অর্থের উৎস নিয়ে স্থানীয় ওলামা পরিষদ প্রশ্ন তোলে এবং তদন্তের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের মুখে গত ৯ জুন মন্দির কমিটি বিগ্রহ নির্মাণের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়। স্থানীয়দের তথ্যমতে, হরিদাস দীর্ঘ দিন ভারতে থাকার পর ২০২৪ সালে এলাকায় ফিরে মন্দিরের দায়িত্ব নেন এবং এই বিশাল বিগ্রহ তৈরির পরিকল্পনা সামনে আনেন। শেষ পর্যন্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এখন তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
মন্তব্য করুন