
দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের ডারবানের দক্ষিণে কোয়ামাখুথা টাউনশিপে একটি আবাসিক বাড়িতে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক সহিংসতায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত ১১টার দিকে ডারবানের ওই টাউনশিপের বাড়িটিতে কয়েকজন লোক অবস্থান করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় ঘটনাস্থলেই ১০ জন প্রাণ হারান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আহত আরও একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম ইএনসিএ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও রয়েছেন। নৃশংস এই হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে হামলাকারীরা বাড়ির মালিকের ব্যক্তিগত একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। অপরাধীদের ধরতে পুলিশি অভিযান চলছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি রক্তক্ষয়ী বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা দেশটিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। কোয়ামাখুথার এই সাম্প্রতিক হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা মোটিভ এখনো উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, পূর্বশত্রুতা কিংবা সংগঠিত অপরাধের জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এর আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করেনি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত করতে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এই ধারাবাহিক সহিংসতার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।