বিশ্বকাপের শেষ ১৬ নিশ্চিত করার রাতটি শুধু পর্তুগালের জন্যই নয়, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্যও ছিল এক স্মরণীয় মুহূর্ত। রাউন্ড অব ৩২-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল পর্তুগাল। ‘জিতলে পরের রাউন্ড, হারলে বিদায়’ এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে লুকা মদরিচদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নকআউট পর্বের বৈতরণী পার হয়েছে পর্তুগিজরা। আর এই নাটকীয় জয়ের পর ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন সিআরসেভেন।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘কাজে টিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেন, “ব্রাজিলের মানুষের সঙ্গে কথা বলাটা আমার কাছে সবসময়ই শতভাগ স্পেশাল। শুধু সেখানে আমার পরিবার আছে বলেই নয়, ব্রাজিলের মানুষকে আমি সত্যিই খুব পছন্দ করি।”
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনের কথা উল্লেখ করে পর্তুগিজ অধিনায়ক আরও বলেন, “পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই ব্রাজিলিয়ানদের কাছ থেকে অঢেল ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি। এই সুযোগে সবাইকে অনেক ভালোবাসা জানাচ্ছি। আপনাদের ধন্যবাদ। এখানে আসতে পারাটা দারুণ আনন্দের।”
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে পর্তুগালের হয়ে প্রথম ডেডলক ভাঙেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১-তে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটিই রোনালদোর ক্যারিয়ারের প্রথম গোল।
ম্যাচের পেনাল্টি শুটআউট নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে রোনালদো বলেন, “আমার মনে হচ্ছিল ম্যাচটা পেনাল্টিতে গড়াবে। তাই আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম। কাজটা সহজ ছিল না। আমার হৃদস্পন্দন অনেক বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু নিজের প্রবৃত্তির ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। আমি জানতাম, গোল করতে পারব। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে। মুহূর্তটি আমাদের সবার জন্য খুবই আবেগের ছিল।”
তবে এই ম্যাচটি কেবল পর্তুগালের জয়ের গল্প নয়, এটি ছিল আধুনিক ফুটবলের দুই কিংবদন্তির শেষ লড়াইয়ের গল্পও। রোনালদোর গোল পর্তুগালকে শেষ ১৬-তে পৌঁছে দিলেও, ক্রোয়েশিয়ার বিদায়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি ঘটল লুকা মদরিচের। এর মাধ্যমে মদরিচের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেরও অবসান ঘটল।
মন্তব্য করুন