শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আইপিও আবেদনের ফাইল কোন দপ্তরে বা কার টেবিলে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তা সহজে জানার জন্য একটি আধুনিক ‘ট্র্যাকিং সিস্টেম’ চালু করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর নিকুঞ্জের ডিএসই টাওয়ারে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান এই তথ্য জানান।
বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে ব্যাংক থেকে সহজে ঋণ পাওয়া যায় বলে অনেক ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আইপিওতে আসতে আগ্রহী হয় না। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও আকর্ষণীয় করতে লিস্টিং ফি কমানোর পাশাপাশি এই ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হবে। এর ফলে পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও স্বচ্ছ হবে।
মাসুদ খান তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, এখন থেকে আইপিও আবেদন সরাসরি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে পুরোপুরি অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় করা এবং ডিলিস্টিং রেগুলেশন নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দূর করা এবং আর্থিক সাক্ষরতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে যাতে সবাইকে নিয়ে একত্রে একটি শক্তিশালী শেয়ারবাজার গড়ে তোলা যায়।
অনুষ্ঠানে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের মন্দা কাটিয়ে দেশের শেয়ারবাজার এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান কমিশনের সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপে গত তিন মাসে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার ইতিবাচক প্রতিফলন বাজারে দেখা যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিকসহ পুঁজিবাজারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন